গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ গেলে হেমন্ত-শীত-বসন্ত মেলে
বদলের খেলা সদাই চলে কিছুই নয় শান্ত
যেমন রয় শুরু তেমনই আছে অন্ত।
এ খেলায় শুধু ব্রাত্য - নারী - বারণ দান দেওয়া
নতুন সবের মাঝেও যেন পুরোনো হয়ে রওয়া
কারণ?
কারণ, সে যে সর্বজয়া।।
হাসি মাপা ,কান্না চাপা,
মাপ করে কথা কওয়া
এক চৌকাঠ পেরিয়ে আরেকটিতে যাওয়া
নতুন সব, নতুনের ভিড়ে; পুরানো সেই সঙ্গী ফেরে
হায়! মাপের ফিতেটি কী তবে নতুন করে পাওয়া?
ওমা তাতে কী?
তার অভ্যেসই তো সওয়া
সে –যে সর্বজয়া।।
পরিবর্তন হয়নি নাকি?
আছে কই আর পর্দা?
না আছে সতীদাহ,
একালে নারী স্বাধীন কত, কত প্রাণবন্ত!
এককালীন ঘরণীরা শুধু ঘরটুকুই জানত।
এরপরও প্রশ্ন আসে? মানবে তা সমাজ বসে?
এরপরেও মুখ খুলে জবাব যায় চাওয়া?
হোক না যতই সর্বজয়া।।
না না স্বাধীনতাই সত্য
রয়েছে প্রমাণ,রয়েছে তথ্য
প্রাপ্ত ওই শক্তিখানি শিরধার্য করা কর্তব্য ।
তবু যেনো মনের কোণে প্রশ্ন দেয়কো উঁকি
সুধিয়ে যায় চুপিসারে, নেইতো কোনো ফাঁকি ?
যা আমার অধিকারে
তার লাগি সুধাই কারে?
কে দেবে যা নিজের সদাই – এ কেমন ভবিতব্য?
চুপ-চুপ-চুপ এ যে সোচ্চার হওয়া
কেমন যেন হিসেব চাওয়া
এমন কান্ড সাজে কী তারে ,মুখের পরে কথা কওয়া?
নয়কি সে সর্বজয়া ?
জিজ্ঞাসু তাও হচ্ছে প্রাণ
জানতে চায় এ অধিকার না দান?
স্বাধীনতার সাথে চাই যে মান।
এই যেন এক শর্ত—
চাই না কোনো বিশেষ আদর নারীর তকমা দেওয়া
মানুষ নারী ,মানুষ ভাবো -এইটুকু শুধু কওয়া
ঘরে-বাইর জিতবে দু'য়েই তাইতো সর্বজয়া।।
গন্ডিতে আর পরবেনা বাঁধা
নয় এতটাও সিধে- সাধা
পুরুষ নয় নারী হয়েই লিখেবে জয়ের গাঁথা।
এই বোঝেনা, সেই জানেনা
এসব এবার বন্ধ;
বুদ্ধি'বলেই বোঝে নারী কী ভালো কী মন্দ।
সংস্কারের আছে জ্ঞান, রাখছে তাও ধরে
দৃষ্টি মেলেই দেখো- নারী সবটুকুই পারে।
না'ই বা হল বংশের বাতি, শুরু তো তারই গর্ভে
যুদ্ধটা নয় নারী- পুরুষে ; যুদ্ধ বিশ্বাসে
পুরুষকে যদি সবল ভাবো নারী দূর্বল কিসে?
নারীর কাজকে সহজ বলার চলবেনা বুজরুকি
দেশরক্ষাও করে সে নিয়ে প্রাণের ঝুঁকি
ভুললে নাকি প্রীতিলতা, ভুললে সুহাসিনী—
ভুললে বুঝি দেশপ্রেমের দাম তাঁরা দিয়েছে কতখানি?
মনে হচ্ছে আগের কথা?- থাক্ গে এখন ধুর—
ভুলোনা নারী ক'দিন আগেই মেখেছিল- সিঁদুর।
কখনও বা প্রাণ বাঁচাতে কাদম্বিনি হওয়া
মা হয়ে সেই সংসার টানে- তাই সে সর্বজয়া।।
নারীর জয় আজ সর্বত্র — ময়দানে-মহাকাশে
সব কটুক্তির জবাবে সে মৃদু-মন্দ হাসে
সুনিতা থেকে দীপালীরা আজ উজ্জ্বল সব তারা
পারে কী সমাজ এগিয়ে যেতে নারীত্বকে ছাড়া?
মানিয়ে নেওয়া তার মনন কেবল -নয় দূর্বল হওয়া
কর্ম দিয়ে ই প্রমাণ করে - কেন সে সর্বজয়া।।
—৹—
- Advika's
এই কবিতা সাহিত্যিক প্রবণতার এক পরিচয়। কোনো ধর্ম, বিশ্বাস, ব্যক্তি তথা সম্প্রদায়কে আঘাত করা অন্তরদিঠি-র উদ্দেশ্য নয়।
আশা করি আপনারা উপভোগ করবেন। ধন্যবাদ।
👌
ReplyDelete