উন্নয়নের হাতটি ধরে, গ্রাম এসেছে শহরে
মেঠো পথের গন্ধ হারিয়েছে কংক্রিটের আস্তরণে
অলি-গলি আজ সড়ক হয়েছে, স্বপ্নকে তাড়া করে
পুরোনো নিজের পাতা উল্টেছে নিঃশব্দে জায়গা ছেড়ে
পাড় বাঁধানো দিঘি হয়েছে বহুতল অট্টালিকা,
বিজলি বাতির দাপটে ক্ষীণ হয়েছে প্রদীপের শিখা।
চিঠির কথা দূরভাষে লিখে -
সভ্যতা শিখেছে সময়কে টেক্কা দিতে,
ঘন্টার কাজ লহমায় মেটে
সময়ের কাটা যেন রুদ্ধ শ্বাসে ছোটে
সে যেনো এক জাদুমন্ত্রবলে
সমগ্র পৃথিবীটা সামিল হয়েছে এক আন্তর্জালে।
মানুষ নিয়েছে নতুনকে সাদরে বরণ করে
অভ্যেসকে বিদায় জানিয়েছে করজোড়ে।
চাষের জমিতে আজ যন্ত্রের দখল চলে,
পাখির কাকলি খোয়া গেছে ট্রাফিকের কোলাহলে।
নীল আকাশ ঢেকে দিয়েছে যানের কালো ধোঁয়া,
চাঁদ-সূর্য ম্লান হাসে- রজণীরা হারিয়েছে সব তারা।
সবুজ মাঠ-বীথিকা-কুঞ্জ সবই হচ্ছে অতীত-
ঋতুরাও আজ দিচ্ছে ফাঁকি,বাকি কেবল গ্রীষ্ম আর শীত।
ভুলে সবুজের পরশ, ধরা পড়ছে পাথরের খোলস ।
প্রগতির নিষ্পেষনে মহী যখন প্রহর গোনে
বসুধাতে আঘাত হেনে, মানুষ চাঁদে জমি কেনে।
শুদ্ধ জল-শুদ্ধ বায়ু তাও হতে বসেছে ইতিহাস
প্রযুক্তি নাকি জোগাবে তাও; এ কী নিষ্ঠুর পরিহাস!
অকাল খরা, অকাল বন্যা ছিলই নিত্য সঙ্গী
ভয় ধরাচ্ছে প্রকৃতি বদলে নিজ ভঙ্গি
সুনামি, আয়লা, কম্প, ঘূর্ণি কতই না এল - এল কী সুমতি?
সুবিধে গুলি বাড়াতে গিয়ে হচ্ছে না'তো ক্ষতি?
তবু থাক, এই তো পরিবর্তন,
উদ্ভাবনে ভর করে মানুষ আনছিল নগরায়ণ।
এইমত তবু ছিল বেশ
শুধু জানান দিচ্ছিল সৃষ্টি -"আমি হচ্ছি নিঃশেষ"
না এতেই হয়নি শেষ—
ফাঁকিতে আজ স্বয়ং মানব-সত্ত্বা
প্রতিপক্ষ নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা,
যে করল সৃজন- তাকেই করে ভ্রুকুটি,
ভাববে নিজে, গড়বে নিজে; কাড়বে মানুষের গদি
সৃষ্টি-কর্তাও বুঝি হেসে বলে -
কী ? কেমন মানবজাতি?
মেহেরগড় আর হরপ্পা কীসব একই পথের পথিক?
যে পথে হাঁটছে বিকাশ- সে পথ কী আদৌ সঠিক?
তবে কী উন্নতি বৃথা- ব্যর্থ বিজ্ঞানমনষ্কতা?
পুরাতনেই খোঁজা উচিত বাঁচার সার্থকতা?
না তেমনটা কই নয়-
সদা- সর্বদা একই থাকা তা'ও কী কখনও হয়-
বিকাশ আসুক-আসুক বৃদ্ধি- এটাই তো বাস্তব
সবের মাঝে বাঁচুক মানুষ-তবে হোক তা পরিবেশ বান্ধব।।
—৹—
-Advika's
এই কবিতা সাহিত্যিক প্রবণতার এক পরিচয়। কোনো ধর্ম, বিশ্বাস, ব্যক্তি তথা সম্প্রদায়কে আঘাত করা অন্তরদিঠি-র উদ্দেশ্য নয়।
আশা করি আপনারা উপভোগ করবেন। ধন্যবাদ।
Sundor
ReplyDelete