চিত্রকল্প সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বিপন্ন মানব সভ্যতার ব্যাখ্যায় জীবনানন্দ দাশের মুন্সিয়ানা: 'বনলতা সেন' রবীন্দ্র পরবর্তী যুগের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশের অনন্য সৃষ্টি 'বনলতা সেন'। দুই বিশ্বযুদ্ধের অন্তর্বর্তীকালীন সময় দাঁড়িয়ে কবি অনুভব করেছিলেন আধুনিক সভ্যতার চরম শূন্যতাকে।কবিতার প্রতিটি পংক্তি বিংশ শতকের মানুষের অস্তিত্বের সংকট, ইতিহাস চেতনা ও কালক্রমে আবদ্ধ মানবাত্মার করুণ দলিল। " হাজার বছর ধ’রে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে, সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে অনেক ঘুরেছি আমি বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে সেখানে ছিলাম আমি;" প্রথম স্তবকে কবি নিজেকে বর্নাণ করেছেন ক্লান্ত পথিক রূপে কালসীমা অতিক্রম করে যিনি পরিশ্রান্ত এবং খুঁজে চলেছেন এক শান্তির আশ্রয়। 'হা...
উন্নয়নের হাতটি ধরে, গ্রাম এসেছে শহরে মেঠো পথের গন্ধ হারিয়েছে কংক্রিটের আস্তরণে অলি-গলি আজ সড়ক হয়েছে, স্বপ্নকে তাড়া করে পুরোনো নিজের পাতা উল্টেছে নিঃশব্দে জায়গা ছেড়ে পাড় বাঁধানো দিঘি হয়েছে বহুতল অট্টালিকা, বিজলি বাতির দাপটে ক্ষীণ হয়েছে প্রদীপের শিখা। চিঠির কথা দূরভাষে লিখে - সভ্যতা শিখেছে সময়কে টেক্কা দিতে, ঘন্টার কাজ লহমায় মেটে সময়ের কাটা যেন রুদ্ধ শ্বাসে ছোটে সে যেনো এক জাদুমন্ত্রবলে সমগ্র পৃথিবীটা সামিল হয়েছে এক আন্তর্জালে। মানুষ নিয়েছে নতুনকে সাদরে বরণ করে অভ্যেসকে বিদায় জানিয়েছে করজোড়ে। চাষের জমিতে আজ যন্ত্রের দখল চলে, ...